
বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে এবং শুরু হয়েছে জোরদার নির্বাচনী প্রচার। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, এই দুই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ভবানীপুরে নির্বাচনী প্রচারের সময় শুভেন্দু অধিকারী বাড়ি বাড়ি গেলে স্থানীয়রা দরজা বন্ধ করে দিচ্ছেন এবং কেউ দরজা খুলছেন না। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি বাড়ির গ্রিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
ভিডিও পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”শুভেন্দু অধিকারী কে দেখে বাংলার মানুষ দরজা খুলছে না। তাই শুভেন্দু অধিকারী ক্ষেপে গেছে 😂🤣।“
তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভাইরাল দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়ো। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার অভিযোগ তুলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে বিক্ষোভ এবং ক্ষোভ প্রকাশের পুরনো ভিডিওকে বিভ্রান্তিকর দাবির সাথে শেয়ার করা হচ্ছে।
তথ্য যাচাইঃ
ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ভিডিওর দীর্ঘ সংস্করণ ‘Taaj News Bangla’-এর ফেসবুকে পাওয়া যায়। ভিডিওটি ৯ জুলাই, ২০২৩, তারিখে পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”নির্বাচন কমিশনে ঢুকেই দরজা বন্ধ দেখে মেজাজ হারান শুভেন্দু অধিকারী।“
যা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ভিডিওটি চলমান নির্বাচন প্রচারের সাথে সম্পর্কিত নয়।
উপরোক্ত তথ্যকে মাথায় রেখে গুগলে প্রাসঙ্গিক কি ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে সংবাদ উপস্থাপন থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন চলাকালীন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভোট সন্ত্রাস, বাধা ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে যান। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি কমিশনের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান এবং উত্তেজিত অবস্থায় গেটের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার অভিযোগ তুলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে বিক্ষোভ ও ক্ষোভ প্রকাশের পুরনো ভিডিওটি চলমান বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত করে বিভ্রান্তিকর দাবিতে শেয়ার করা হচ্ছে।

