মা ও শিশুর চলন্ত বাইক থেকে জলমগ্ন রাস্তায় পড়ে যাওয়ার ভিডিওটি ভারতের নয়, পাকিস্তানের

False Social

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে—জলমগ্ন একটি রাস্তায় ধীরগতিতে চলতে থাকা একটি বাইকে বসে থাকা এক মহিলা ও তাঁর কোলে থাকা সন্তান রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে ভারসাম্য হারিয়ে হঠাৎ জলের মধ্যে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে বাইকচালক বাইকটি শুইয়ে দিয়ে তাঁদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন। এই ভিডিওটি শেয়ার করে অনেকেই মুখ্যমন্ত্রীর তথাকথিত ‘উন্নয়ন-কে ব্যঙ্গ করছেন এবং দাবি করছেন যে এটি আমাদের রাজ্য, অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের ঘটনা। 

পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”একটুর জন্য শিশুটি প্রাণে বাঁচলো, চোর মমতার ভয়ংকর উন্নয়ন, পক পক পক খেলা হবে।“ 

তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের নয়, এমনকি ভারতেরও নয়। এটি পাকিস্তানের করাচি শহরের।

ফেসবুক পোস্ট 

তথ্য যাচাইঃ 

এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে আমরা ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে সার্চ করি। ফলস্বরুপ, করাচি ভিত্তিক এক ফেসবুক পেজ ‘Facture’-থেকে এই ভিডিওটি ২০ আগস্টের পোস্ট করা মিলে। পোস্টের মাধ্যমে এই দুর্ঘটনাকে পাকিস্তানের করাচির বলে জানানো হয়েছে। 

https://www.facebook.com/reel/1145137364148214

অন্য বেশ কিছু এক্স প্রোফাইল থেকেও এই ভিডিওটি পোস্ট করে এটিকে পাকিস্তানের করাচির বলে জানানো হয়েছে। 

ভিপিএন ব্যবহার করে আমরা এই ভাইরাল ভিডিও কেন্দ্রিক পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমে Capital TV ইউটিউব ইউটিউব চ্যানেলে ২০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে আপলোড করা একটি উপস্থাপন পাই। জানানো হয়েছে- করাচিতে ভারী বৃষ্টির পর জলমগ্ন রাস্তায় এক মহিলা ও তাঁর শিশু গাড়ি থেকে পড়ে যান। 

Dawn পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯ আগস্ট করাচিতে এমন ভয়াবহ বৃষ্টি হয়েছিল যা শহরকে সম্পূর্ণ থমকে দেয়। বড় বড় রাস্তা প্লাবিত হয়, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং বিমান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। 

নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, জলমগ্ন রাস্তার মাঝে মা ও শিশুর বাইক থেকে পড়ে যাওয়ার ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের নয়, এমনকি ভারতেরও নয়। এটি পাকিস্তানের করাচি শহরের।

Avatar

Title:মা ও শিশুর চলন্ত বাইক থেকে জলমগ্ন রাস্তায় পড়ে যাওয়ার ভিডিওটি ভারতের নয়, পাকিস্তানের

Fact Check By: Nasim A  

Result: False

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *