
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, মধ্যপ্রদেশের সিধিতে হিন্দুত্ববাদীরা একজন মুসলিম ডক্টরকে হেনস্থা করছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কয়েকজন লোক মিলে প্রাপ্ত রয়স্ক এক ব্যক্তির মুখে কালো তরল জাতীয় জিনিস ঢেলে দিচ্ছে।
ভিডিও পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”মধ্যপ্রদেশের সিধিতে হিন্দুত্ববাদী গুন্ডাদের দ্বারা একজন “মুসলিম ডাক্তার” হয়রানির শিকার হয়েছেন। ভারতে সংখ্যালঘুদের হয়রানি কেন হিন্দুত্ববাদী উগ্রপন্থীদের নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে??? এরা সেই একই মানুষ যারা অন্য দেশের মানুষকে নিজের মনে করে কিন্তু নিজেদের দেশের নাগরিকদের তাদের কাছে অপরিচিত মনে হয়। এই ধরনের ঘটনা প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে কিন্তু প্রশাসন বা সরকার এই বিষয়গুলিতে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।“
তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি ভাইরাল দাবিটি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর। ভিডিওর ঘটনায় কোনো সাম্প্রদায়িক কোণ নেই। হেনস্থার শিকার ব্যক্তি সত্যিই একজন চিকিৎসক, তবে তিনি মুসলিম নন, হিন্দু।
তথ্য যাচাইঃ
এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। ফলস্বরুপ, এই ভিডিওটি সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টাইমস-এর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়। ৫ নভেম্বর,২০২৫, তারিখে পোস্ট করা এই ভিডিও পোস্টের ক্যাপশনে জানানো হয়েছে- মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলায় স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে বিতর্ক হিংস্র হয়ে ওঠে যখন শিবসেনার রাজ্য সহ-সভাপতি বিবেক পান্ডে সিভিল সার্জন ডাঃ এস.বি.কে আক্রমণ করেছিল। ঘটনাটি ঘটেছে একটি জেলা হাসপাতালে শিবসেনার কর্মী মারা যাওয়ার পরে, অভিযুক্ত করা হয়েছে ভুল চিকিৎসার জন্য। হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা জুড়ে চিকিৎসকদের জরুরী অবস্থা ছাড়া সব সেবা স্থগিত, আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি। ড. খারে, ৬৪ বছর বয়সী বলেছেন যে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন এবং স্বেচ্ছাশ্রম অবসরের পরিকল্পনা করেছেন। পুলিশ বিবেক পান্ডে এবং আরো দুজনকে আটক করেছে, এবং তদন্ত চলছে।মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলায় এক জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে বিরোধ হিংসায় রূপ নেয়। শিবসেনার এক কর্মীর মৃত্যুর পর ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে দলের রাজ্য সহ-সভাপতি বিবেক পান্ডে সিভিল সার্জন ডাঃ এস.বি.কে আক্রমণ করেন। ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জেলার চিকিৎসকেরা জরুরি পরিষেবা ছাড়া বাকি সব সেবা বন্ধ রাখেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা দাবি করেন। ৬৪ বছর বয়সী ডাঃ খারে জানান, তিনি অপমানিত বোধ করছেন এবং স্বেচ্ছা অবসরের কথা ভাবছেন। পুলিশ বিবেক পান্ডে সহ আরও দুজনকে আটক করেছে, তদন্ত চলছে।‘
এই তথ্যকে মাথায় রেখে গুগল সার্চের মাধ্যমে এই ঘটনাকে ঘিরে অনেক সংবাদ প্রতিবেদন পেয়ে যায়। পিটিআই-এর প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে,”মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলায় স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতি না হওয়ার অভিযোগে ডানপন্থী কর্মীরা সিভিল সার্জন ডাঃ এস.বি. খারের মুখে কালো রং মাখায়। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে এক কর্মকর্তা মঙ্গলবার জানান। সোমবার সিধি শহরে নিজের ব্যক্তিগত ক্লিনিক থেকে বের হয়ে সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন খারে। তখন বিবেক পান্ডের নেতৃত্বে একদল ডানপন্থী কর্মী তাকে আটকায় এবং জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবা খারাপ থাকার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদস্বরূপ তার মুখ ও শরীরের অন্য অংশে কালো কালি মাখায় বলে, খারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়।“
প্রতিবেদন গুলোতে চিকিৎসকের নাম এস. বি. খারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। “খারে” একটি হিন্দু পদবি। তাছাড়া, প্রতিবেদনগুলোতে কোনো সাম্প্রদায়িক কোণের উল্লেখ নেই।

এই ব্যাপারে আরও নিশ্চিত হতে আমরা ডঃ এস. বি. খারে-এর সাথে যোগাযোগ করি। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে তিনি মুসলিম নন, হিন্দু।
নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের দ্বারা মুসলিম ডাক্তারকে হেনস্তা করার দাবিটি ভুয়ো। ভিডিওর ঘটনায় কোনো সাম্প্রদায়িক কোণ নেই। হেনস্থার শিকার ব্যক্তি সত্যিই একজন চিকিৎসক, তবে তিনি মুসলিম নন, হিন্দু।
Title:মধ্যপ্রদেশের সিধিতে ডাক্তার হেনস্তার পুরনো ঘটনায় কোনো সাম্প্রদায়িক কোণ নেই
Fact Check By: Nasim AkhtarResult: False

