আমেরিকার রাস্তায় অসংখ্য মানুষের বিক্ষোভের ভাইরাল ভিডিওটি এপস্টিন ফাইলসের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় 

International Misleading

অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নির্যাতন ও পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টিনের নিজস্ব তথ্য জনসম্মুখে আসার পর থেকেই ইলন মাস্ক, বিল গেটস, প্রিন্স আন্ড্রিউ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী খ্যাতি সম্পন্ন লোকেদের দিকে আঙ্গুল উঠেছে। আর এই প্রেক্ষিতেই দুটো ভিডিওর কোলাজ একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে বিশাল ভাইরাল হচ্ছে যেখানে জনগণের বিশাল ভিড় রাস্তায় নেমে প্রদর্শন করছেন। 

ভিডিও পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”#EpsteinFiles-এ ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম আসার পর, শত শত আমেরিকান ট্রাম্প টাওয়ার ঘেরাও করে ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করছে। আমেরিকানরা বলে যে একজন ধর্ষকের রাষ্ট্রপতি হওয়ার কোন অধিকার নেই এবং ট্রাম্পের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।“ 

তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি দাবিটি ভুয়ো। ভিডিওর ক্লিপগুলো এপস্টিন ফাইলস প্রকাশের আগের এবং এতে “No Kings” ও “No ICE” বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে।

ফেসবুক পোস্ট 

তথ্য যাচাইঃ 

ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে ভিডিও দুটোর আসল উৎস খুঁজে বের করি। 

প্রথম ভিডিওঃ 

‘newszone360’ নামক ইন্সতা পেজ থেকে ভিডিওটি ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, তারিখে পোস্ট করে ক্যাপশনে জানানো হয়- ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের প্রতিবাদে লস আঞ্জেলেস ও শিকাগোতে মানুষ রাস্তায় নেমেছে। এটি দেশজুড়ে হওয়া “নো কিংস” আন্দোলনের অংশ ছিল। 

১৯ অক্টোবর, ২০২৫, তারিখে করা অন্য একটি ইন্সতা পোস্টেও এটিকে “নো কিংস” আন্দোলনের অংশ বলে জানানো হয়েছে। 

দ্বিতীয় ভিডিওঃ 

NewsX World’-এর ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, তারিখে পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”বিক্ষোভকারীদের ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামের দিকে মধ্য আঙুল দেখাতে দেখা গেছে, এই অঙ্গভঙ্গিকে রাগ ও রাজনৈতিক মতবিরোধের চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এই আইনটি শক্তিশালী বিরোধী অনুভূতির প্রতিফলন ঘটেছে, বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের নীতি ও নেতৃত্বের উপর হতাশা প্রকাশ করেছেন, রাস্তায় এবং অনলাইনে উভয় ক্ষেত্রেই উত্তপ্ত বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছেন।“ 

অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে ১৬ জানুয়ারিতে ভিডিওটি আপলোড করে এটিকে ”নো কিংস” আন্দোলনের অংশ বলে জানানো হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, ”নো কিংস” বিক্ষোভ ছিল যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত একটি সরকারবিরোধী আন্দোলন যেখানে বিক্ষোভকারীরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার দাবি তোলে। এটি প্রথম ১৪ জুন ২০২৫ সালে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে ১৮ অক্টোবর ২০২৫-এ আরও বৃহৎ আকারে পুনরায় আয়োজন করা হয়েছিল। 

 প্রসঙ্গত, ”নো কিংস” বিক্ষোভ ছিল যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত একটি সরকারবিরোধী আন্দোলন যেখানে বিক্ষোভকারীরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার দাবি তোলে। এটি প্রথম ১৪ জুন ২০২৫ সালে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে ১৮ অক্টোবর ২০২৫-এ আরও বৃহৎ আকারে পুনরায় আয়োজন করা হয়েছিল। 

 নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেন্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, ভিডিওটি এপস্টিন ফাইলসের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের আয়োজিত “নো কিংস” আন্দোলনের ভিডিওকে বিভ্রান্তিকর দাবির সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছে। 

Avatar

Title:আমেরিকার রাস্তায় অসংখ্য মানুষের বিক্ষোভের ভাইরাল ভিডিওটি এপস্টিন ফাইলসের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়

Fact Check By: Nasim Akhtar 

Result: Misleading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *