
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে কয়েকজন মিলে একজন ব্যক্তিকে মারধর করছে। ভিডিওটি শেয়ার করে এটিকে বাংলাদেশের একজন হিন্দু ব্যক্তিকে নিগ্রহের ঘটনা বলে দাবি করা হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, হিন্দু হওয়ায় তাকে মারধর করা হচ্ছে।
ভিডিও পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”শুধুমাত্র তার অপরাধ সে একজন সনাতন আর বাস করে বাংলাদেশে। বাড়ি ঘর ছেড়ে পালানোর জন্য কি পরিমানে জোর জবরদস্তি করছে। যদি এই পরিস্থিতি তুমিও দেখতে না চাও তাহলে পশ্চিমবাংলায় ভেবেচিন্তে ভোট টা দিও।“
তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি যে দাবিটি মিথ্যা। ভিডিওতে দেখানো নিগ্রহের ঘটনায় কোনো সাম্প্রদায়িকতার বিষয় নেই। নিগ্রহের শিকার ব্যক্তি এবং মারধরকারী উভয়েই মুসলিম সম্প্রদায়ের।
তথ্য যাচাইঃ
এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওর কিছু ফ্রেম গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। ফলস্বরূপ, এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মারধরের শিকার ব্যক্তির নাম মোঃ মিন্টু এবং মারধরকারী ব্যক্তি রিয়াজ মৃধা। রিয়াজ মৃধা বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের রাজ্জাকপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মিন্টুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ৪ এপ্রিল তাকে মাদকসহ হাতেনাতে ধরে বিএনপি নেতা এবং সেখানেই তাকে মারধর শুরু করেন। ঘটনাস্থলেই মিন্টুকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয় এবং তার কাছ থেকে ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না থাকার অঙ্গীকার নেওয়া হয়। শুধু তাই নয় তাকে বানারীপাড়া এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

| প্রতিবেদন | আর্কাইভ |
অন্যান্য প্রতিবেদনগুলো পড়তে ক্লিক করুন এখানে, এখানে, এখানে।
নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, বাংলাদেশে হিন্দু হওয়ার কারণে মারধর করা হচ্ছে এমন দাবিতে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি মিথ্যা। ভিডিওতে দেখানো নিগ্রহের ঘটনায় কোনো সাম্প্রদায়িকতার বিষয় নেই। নিগ্রহের শিকার ব্যক্তি এবং মারধরকারী উভয়েই মুসলিম সম্প্রদায়ের।

