পাকিস্তানের পারিবারিক সহিংসতার একটি ভিডিওকে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার ভিডিও দাবিতে শেয়ার 

Communal False

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, এটি পাকিস্তানের ঘটনা এবং এতে দেখা যাচ্ছে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে জোর করে ৪০ বছর বয়সী এক মুসলিম পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি কাঁদতে থাকা একটি মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে, আর মেয়েটি তার মাকে ডাকছে। পরে একই ব্যক্তিকে একটি ঘরে গিয়ে রাইফেল বের করতে দেখা যায়। তখন আশেপাশের লোকজন দ্রুত তাকে থামানোর চেষ্টা করে এবং তার হাত থেকে বন্দুকটি নিয়ে নেয়। 

পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”পাকিস্তান: ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ৪০ বছর বয়সী এক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষের সাথে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার পুরো ভবিষ্যৎ নষ্ট।“ 

তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছ ভিডিওটি পাকিস্তানের লাহোরের ঘটনা এবং এতে পারিবারিক সহিংসতার একটি দৃশ্য দেখা যায়। এটি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। 

ফেসবুক পোস্ট 

তথ্য যাচাইঃ 

এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। ফলস্বরুপ, এই একই ভিডিও পাকিস্তানের সাংবাদিক ইমতিয়াজ চান্দিও-এর এক্স হ্যান্ডেলে পাওয়া যায়। ১১ সেপ্টেম্বর,২০২৩, তারিখের এই পোস্টের ক্যাপশনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে- দক্ষিণ ক্যান্টনমেন্টে পারিবারিক ঝগড়ার সময় এক ব্যক্তি বন্দুক দিয়ে তার স্ত্রীকে মারার চেষ্টা করেন। আত্মীয়রা তাকে থামিয়ে স্ত্রীকে বাঁচান। ওই ব্যক্তিকে তার মেয়েকেও মারতে দেখা যায়। অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি এবং পাঞ্জাবের আইজি-র দৃষ্টি আকর্ষণের কথা বলা হয়েছে। 

উপরোক্ত এক্স পোস্টের রিপ্লাইয়ে লাহোর পুলিশ জানিয়েছিলেন,”এই ঘটনায় সাউদার্ন ছাওনি থানায় মামলা নম্বর ৩৪২৬/২৩ নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টির পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।“ 

পাকিস্তানি সংবাদ মাধ্যম এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাহোরে খুররম শাব্বির নামের এক ব্যক্তি ঝগড়ার পর তার স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে বন্দুক তুলে নিয়েছিল। পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে বাধা দিয়ে স্ত্রীকে রক্ষা করেছিল। পরে ওই নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ লাহোরের সাউথ ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। 

প্রতিবেদন আর্কাইভ 

পাকিস্তান ভিত্তিক অন্যান্য সংবাদ প্রতিবেদন থেকেও জানা যায় যে, ঘটনাটি পারিবারিক বিবাদের, কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের ঘটনার নয়। প্রতিবেদন গুলো পড়তে ক্লিক করুন এখানে, এখানে, এখানে। 

নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাই করে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, পাকিস্তানে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে জোর করে ৪০ বছর বয়সী এক মুসলিম পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার দাবিটি মিথ্যা। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লাহোরের একটি পরিবারের পারিবারিক বিবাদের ভিডিও বিভ্রান্তিকর দাবির সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছে।

Avatar

Title:পাকিস্তানের পারিবারিক সহিংসতার একটি ভিডিওকে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার ভিডিও দাবিতে শেয়ার

Fact Check By: Nasim Akhtar 

Result: False

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *