
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দুটি ভিডিওর কোলাজ একটি ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে ‘কাশ্মীরি স্বাধীনতা সংগ্রামী’ নামে একটি জঙ্গি সংগঠন জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরিতে একটি ভারতীয় সেনা শিবিরে হামলা চালিয়ে চারজন জওয়ানকে হত্যা করেছে এবং আরও ২০ জনের বেশি গুরুতর আহত হয়েছে। প্রথম ভিডিওতে একটি ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে পুরো ভবনটি আগুনে জ্বলছে। দ্বিতীয় ভিডিওতে একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে সংবাদমাধ্যমের সামনে চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে দেখা যায়। দুটি ভিডিও এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন এগুলো একই হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত।
পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরিতে কাশ্মীরি স্বাধীনতা সংগ্রামীরা একটি ভারতীয় সেনা ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ৪ জন সেনা সদস্যকে হত্যা এবং ২০ জনেরও বেশি আহত করেছে।“
তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি দুটি ভিডিওই পুরোনো এবং একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কহীন। এছাড়া, এ ধরনের কোনো হামলার খবর কোথাও প্রকাশিত হয়নি।
ফেসবুক পোস্ট
https://www.facebook.com/reel/1198829622417122
তথ্য যাচাইঃ
জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরিতে ভারতীয় সৈন্যের ক্যাম্পে হামলার বিষয়ে জানতে গুগলে প্রাসঙ্গিক কি ওয়ার্ড সার্চ করি। কিন্তু কোন বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদনেই এই ধরনের কোন খবরের উল্লেখ পাওয়া যায় না। সংবাদ প্রতিবেদনে এই খবরের অনুপস্থিতি থেকে ধারনা হয় যে দাবিটি বিভ্রান্তিকর।
ভিডিও দুটির আসল উৎস জানতে ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে আলাদা আলাদা ভাবে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি।
প্রথম ভিডিওঃ
‘WION’-এর ইউটিউব চ্যানেলে ১৫ নভেম্বর, ২০২৫, তারিখে আপলোড করা ভিডিওর উপস্থাপন অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরের নওগাম থানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত নয়জন নিহত ও ২৯ জন আহত হন। থানার প্রাঙ্গণে জব্দ করা বিস্ফোরক পরীক্ষা করার সময় ফরেনসিক দলের উপস্থিতিতেই বিস্ফোরণটি ঘটেছিল।
‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র প্রতিবেদন এটি নিশ্চিত করে যে বিস্ফোরণটি জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরে অবস্থিত নউগাও পুলিশ থানায় ঘটেছিল।

দ্বিতীয় ভিডিওঃ
IGP জম্মু জোনের অফিসিয়াল এক্স প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি ১৩ মে, ২০২২, তারিখে পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিওতে তৎকালীন অতিরিক্ত এডিজি মুকেশ সিং গণমাধ্যমকে একটি বাস দুর্ঘটনা সম্পর্কে ব্রিফ করছিলেন, কোনো সেনা শিবিরে হামলার বিষয়ে নয়।
এনডি টিভি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাটরা থেকে জম্মুর পথে যাত্রাকালে বৈষ্ণো দেবী থেকে ফেরা তীর্থযাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনায় চারজন নিহত হন এবং ২০ জনের বেশি আহত হন।
এছাড়াও, ভারতের সরকারের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি)র ফ্যাক্ট চেক ইউনিটও ভাইরাল দাবি খণ্ডন করেছে। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পোস্ট করে জানিয়েছেন যে,” পাকিস্তানি প্রোপাগান্ডা অ্যাকাউন্ট ‘Markhor_Paki’ দুটি পুরোনো ভিডিও শেয়ার করে দাবি করেছে যে কাশ্মীরি স্বাধীনতা যোদ্ধারা রাজৌরিতে একটি ভারতীয় সেনা শিবিরে হামলা চালিয়েছে। এই দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো।“
নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরিতে কাশ্মীরি স্বাধীনতা সংগ্রামী জঙ্গিদের ভারতীয় সেনা ক্যাম্পে হামলা করার দাবিটি ভুয়ো। ভিডিওটি দুটি পুরনো এবং একে অপরের সাথে সম্পর্কহীন।

