
দিল্লির উত্তম নগরে হোলি উদযাপনের সময় পানিভরা একটি বেলুন মুসলিম পরিবারের এক মহিলার শরীরে পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী পরিবারের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। পরে তা মারামারিতে রূপ নেয় এবং এতে ২৬ বছর বয়সী এক তরুণ মারা যান। এই ঘটনায় পুলিশ মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে সেটিকে দিল্লির উত্তম নগরের বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, হেলমেট পরিহিত এক নারী পুলিশ সদস্য বোরখা পরা এক মহিলাকে জোরপূর্বক টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দাবি করা হচ্ছে, বোরখা পরিহিত ওই মহিলা উত্তম নগরের রুবিনা বেগম। রুবিনা নাকি দিল্লি পুলিশকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন তাই পুলিশ তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ভিডিও পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”দিল্লির উত্তম নগরের #রুবিনা_বেগম কেবল পুলিশকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। তাই বলে কি রুবিনা বেগমকে দিল্লি পুলিশ এভাবে কুকুরের মতো ধরে নিয়ে যাবে। এটা কিন্তু খুব অন্যায়।“
তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি গত বছরের নভেম্বরে গুজরাটের গির সোমনাথ জেলায় সরকারি জমিতা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় পুলিশের এক প্রতিবাদকারীকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিওকে ভুয়ো দাবির সাথে শেয়ার করা হচ্ছে।
তথ্য যাচাইঃ
এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। বেশ কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট, ইন্সতা পোস্ট, ইউটিউব ভিডিও পাওয়া যায় যেখানে এই ভিডিওটি শেয়ার করে এটিকে গুজরাটের গির সোমনাথ জেলার বলে জানিয়েছে। ১০ নভেম্বর, ২০২৪, তারিখে সোমনাথ মন্দির থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। কর্মকর্তারা একটি দরগাহ ভাঙার চেষ্টা করলে তা ঠেকাতে কিছু লোক পাথর নিক্ষেপ করে। এর জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে এবং ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। যাদের পরে প্রকাশ্যে প্যারেড করানো হয়।
উপরোক্ত ভিডিওটি মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, ভিডিওতে দৃশ্যমান পুলিশ ব্যারিকেডে গুজরাটি ভাষায় ‘গির সোমনাথ জেলা পুলিশ’ লেখা রয়েছে।
২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর প্রভাস পটন এলাকায় সরকারি জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা সরাতে প্রশাসন একটি বড় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিল। এ সময় মোট ১২টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় যার মধ্যে বাড়ি, দোকান এবং একটি ধর্মীয় স্থাপনা (দরগাহ) ছিল। ধর্মীয় স্থাপনাটির দেয়াল ভাঙা শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় দল সেখানে জড়ো হয়। প্রায় ৭০–১০০ জন মানুষ, যার মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল, উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এরপর পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। সেই ঘটনারই একটি ভিডিও যেখানে একজন মহিলাকে পুলিশ টেনে নিয়ে যাচ্ছে তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল।
নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, গুজরাটের গির সোমনাথ জেলায় সরকারি জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় পুলিশের এক প্রতিবাদকারীকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পুরনো একটি ভিডিওকে মনগড়া দাবির সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছে।

