
গত তিন-চার সপ্তাহ ধরে ইরানে চলছে জনগণের বিক্ষোভ। ইসলামী প্রজাতন্ত্র সরকারের প্রতি ব্যাপক অসন্তোষ এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশের একাধিক শহরে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। এই পরিস্থিতিতে সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক ভুয়ো খবর। অপ্রাসঙ্গিক বিভিন্ন ছবি, ভিডিও ও পোস্টকে ইরানের বিক্ষোভের দৃশ্য বলে ভুয়ো ভাবে শেয়ার করা হচ্ছে। এমনই একটি ভিডিও বর্তমান সোস্যাল মিডিয়া ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে যাচ্ছে একদল মহিলা তার বুরখা খুলে ফেলছে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর পোস্টারে আগুন দিচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে এটিকে চলমান ইরানের বিক্ষোভের দৃশ্য বলে দাবি করা হচ্ছে।
পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”আবারো ইরানে হিজাব খুলে প্রেসিডেন্টের ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদ রাস্তায় #reels #viral #iran #IranProtests #politics #trendingreelsvideo।“
তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি দাবিটি ভুয়ো। ইরান সরকারের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের ইরানে আয়োজিত বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় হিজাব খুলে ইরান প্রেসিডেন্ট খামেনেইর পোস্টারে আগুন লাগানোর ভিডিওকে বিভ্রান্তিকর দাবির সাথে শেয়ার করা হচ্ছে।
তথ্য যাচাইঃ
এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। ফলে, একই রকমের দৃশ্য সম্বলিত একটি ভিডিও ‘Camille Eros’-এর ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইলে পাওয়া যায়। ১৮ জানুয়ারিতে করা এই পোস্টের উপরে লেখা হয়েছে- ইরানের মানুষের পাশে আমাদের উদ্যোগ।
ক্যামিলি ইরোস একজন ফরাসি অ্যাকটিভিস্ট এবং Collectif Eros নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্র। এই সংগঠন মূলত নারীর অধিকার, ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সংহতির কাজ নিয়ে কাজ করে।
অন্য এক ভিডিও পোস্টে লেখা হয়েছে- তুমি একজন ফরাসি নারী, ইরানি নারীদের সমর্থন করছ।
অর্থাৎ, ভিডিও মহিলাগুলো ফরাসির বাসিন্দা এবং তারা ইরানি নারীদের সমর্থনে হিজাব খুলে ইরান প্রেসিডেন্ট খামেনেইর পোস্টারে আগুন লাগিয়ে লাগাচ্ছে।
স্টক ইমেজ সংস্থা গেট্টি ইমেজ’-এর গ্যালারিতেও এই প্রদর্শনের বেশ অনেকগুল ছবি পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট ভাইরাল ভিডিওর সাথে মিল থাকার একটি ছবির সাথে লেখা হয়েছে,”ডানপন্থী সংগঠন নেমেসিস–এর নারীদের ইরানের জনগণের সমর্থনে একটি মিছিলে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবিতে আগুন দিতে দেখা যায়। ঘটনাটি ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ফ্রান্সের প্যারিসে। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ হয়েছে। দেশটির অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ডিসেম্বর মাসে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের পর কমে গেছে।“


ইরান সরকারের বিরোধিতা করে এবং ইরানি নারীদের অধিকারের সমর্থনে প্যারিসে আয়োজিত এই বিক্ষোভ প্রদর্শনে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়ে মার্চ করেছিলেন।
নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, ইরান সরকারের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের প্যারিস শহরে আয়োজিত বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় হিজাব খুলে ইরান প্রেসিডেন্ট খামেনেইর পোস্টারে আগুন লাগানোর ভিডিওকে ইরানী মেয়েদের বিক্ষোভ প্রদর্শনের দাবি করে শেয়ার করা হচ্ছে।
Title:ফ্রান্সের প্যারিসে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভের ভিডিও ভুয়ো দাবির সাথে শেয়ার
Fact Check By: Nasim AkhtarResult: Misleading

