
২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নাস্তিক জাভেদ আখতার ও ইসলাম ধর্মের বিশেষজ্ঞ মুফতি শামাইল নাদভির মধ্যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। একদিকে যুক্তিবাদী, মানবতাবাদী ও প্রশ্নকামী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জাভেদ আখতার ঈশ্বরের অস্তিত্ব, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সামাজিক বাস্তবতার পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে মুফতি শামাইল নাদভি ধর্মীয় গ্রন্থ, বিশ্বাস এবং আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার আলোকে ঈশ্বরের অস্তিত্বকে ব্যাখ্যা ও সমর্থন করার চেষ্টা করেন। এই বিতর্কের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জাভেদ আখতারের একটি ছবি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে যা শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।
পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”জাভেদ আখতার ডিবেট এর পর মেনে নিয়েছেন ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে, ইসলাম গ্রহণ করলেন জাভেদ আখতার!।“
তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি যে জাভেদ আখতারের ইসলাম ধর্ম গ্রহন করার দাবিটি মিথ্যা। ভাইরাল ছবিটি এআই নির্মিত।
তথ্য যাচাইঃ
এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে আমরা প্রথমে গুগলে প্রাসঙ্গিক কি ওয়ার্ড সার্চ করি। ফলস্বরুপ, জাভেদ আখতারের একটি এক্স পোস্ট পাওয়া যায় যেখানে তিনি ভাইরাল এই দাবিকে খণ্ডন করেছেন। ১ জানুয়ারিতে করা এই পোস্টে তিনি লিখেছেন,”আমার নামে একটি ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে কম্পিউটার–জেনারেটেড একটি ভুয়া ছবিতে আমার মাথায় টুপি পরানো দেখানো হয়েছে এবং দাবি করা হচ্ছে যে শেষ পর্যন্ত আমি ঈশ্বরে বিশ্বাসী হয়ে গেছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বিষয়টি নিয়ে আমি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং এ ধরনের ভুয়া খবর ছড়িয়ে আমার সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে সাইবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার বিষয়টি আমি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছি। একই সঙ্গে যারা এই ভুয়া তথ্য তৈরি ও যারা তা ছড়িয়ে দিয়েছে, তাদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার কথাও ভাবছি।“
আমরা ভাইরাল এই ছবিটিকে এআই কন্টেন্ট শনাক্তকরণ টুলের মাধ্যমে যাচাই করি। টুলগুলো নিশ্চিত করে যে ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি।

নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, জাভেদ আখতারের ইসলাম ধর্ম গ্রহন করার দাবিটি মিথ্যা। ভাইরাল ছবিটি এআই নির্মিত।
Title:ইসলামি পোশাকে জাভেদ আখতারের ভাইরাল ছবিটি এআই নির্মিত
Fact Check By: Nasim AkhtarResult: Altered

