
গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে চলছে জনগণের বিক্ষোভ। ইসলামী প্রজাতন্ত্র সরকারের প্রতি ব্যাপক অসন্তোষ এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশের একাধিক শহরে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। এই পরিস্থিতিতে সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক ভুয়ো খবর। অপ্রাসঙ্গিক বিভিন্ন ছবি, ভিডিও ও পোস্টকে ইরানের বিক্ষোভের দৃশ্য বলে ভুয়ো ভাবে শেয়ার করা হচ্ছে। এমনই একটি ভিডিও বর্তমান সোস্যাল মিডিয়া ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে যাচ্ছে একজন মহিলা তার বুরখা খুলে ফেলছে এবং তার বুরখার নিচে থাকা একটি টি শার্টে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইকে নিয়ে আপত্তিকর বার্তা লেখা রয়েছে। দাবি করা হচ্ছে যে এই ভিডিওটি বর্তমানে চলমান ইরানের বিক্ষোভের দৃশ্য অর্থাৎ এটি ইরানের ভিডিও।
ভাইরাল এই ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, “ইরানের এই সাহসী মেয়েটিকে দেখুন… সে তার বোরখা খুলে খামেনির ইসলামী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য প্রতিবাদ শুরু করেছে… বোরখা খোলার পর তার টপে লেখা ছিল – F***K iran এর সাহসী মেয়েরা, ইসলা’মী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে… অন্যদিকে ভারতের সেক্যুলার নারীবাদী মহিলারা, হিজাবের সমর্থনে লুঙ্গি নৃত্য পরিবেশন করছে…”
তথ্য যাচাই করে আমরা দেখতে পেয়েছি এই দাবি বিভ্রান্তিকর। ফ্রান্সের একটি ভিডিওকে ইরানের দাবি করে সোস্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে।
তথ্য যাচাইঃ ‘
এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ভাইরাল এই ভিডিওর কি-ফ্রেমগুলোকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। ফলাফলে আমরা একাধিক ইনস্টাগ্রাম পোস্ট খুঁজে পাই যেখানে বলা হয়েছে যে এই ভিডিওটি ফ্রান্সের প্যারিস শহরে চলতি বছরে ১১ জানুয়ারি তোলা হয়েছে এবং এটি ইরানের ঘটনা নয়।

এরপর আমরা একাধিক পোস্ট খুঁজে পাই যেখান থেকে জানা যায় ভিডিওর এই নারী একজন সামাজিক আন্দোলনকারী ক্যামিলি এরোস। সামাজিক যোগ মাধ্যম এক্স-এর একটি পোস্টের উত্তরে ক্যামিলি নিজে জানান যে এই ভিডিওটি প্যারিসে রেকর্ড করা হয়েছে, ইরানে নয়।

অতএব এর থেকে প্রমাণিত হয় এই ভিডিওটি প্যারিসের। ১২ জানুয়ারি প্রকাশিত Euronews.com নামে একটি সংবাদ মাধ্যমের একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাই যেখান থেকে জানতে পারি যে প্যারিসে ইরানি বিক্ষোভকারী এবং নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্সের সমর্থকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এরপর আমরা আমরা দেখতে পাই যে ক্যামিলি এরোস এই ভিডিওটি তার এক্স হ্যান্ডেল এবং ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট থেকে ১১ জানুয়ারি পোস্ট করেছিল।
ক্যামিলি ইরোস একজন ফরাসি অ্যাকটিভিস্ট এবং Collectif Eros নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্র। এই সংগঠন মূলত নারীর অধিকার, ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সংহতির কাজ নিয়ে কাজ করে।
এরপর গুগল ম্যাপস স্ট্রিট ভিউতে আমরা ভিডিওর অবস্থান খুঁজে বের করি। ভিডিওতে থাকা মহিলার পিছনে যে ভবনগুলি দেখা যাচ্ছে তার সাথে প্যারিসের Place Victor Hugo এলাকার ভবনগুলির বেশ মিল রয়েছে। আমরা ভিডিওর সাথে এই লোকেশনের তুলনা করে নিশ্চিত হয় যে এই ভিডিও প্যারিসেই তোলা হয়েছে।

যদিও ইরানে সরকারের ওই দেশে বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে, এই ভিডিওটি আসলে ইরানের নয়।
নিষ্কর্ষ: তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেন্ডো সিদ্ধান্তে এসেছে ভাইরাল ভিডির দাবিটি বিভ্রান্তিকর। ১১ জানুয়ারি তোলা প্যারিসের একটি ভিডিওকে ইরানের বিক্ষোভের দৃশ্য দাবি করে ফেক নিউজ ছড়ানো হচ্ছে।
Title:প্যারিসের ভিডিওকে ইরানের বিক্ষোভের দৃশ্য দাবি করে সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল
Fact Check By: Nasim AkhtarResult: Misleading

