
সম্প্রতি যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মমতা ব্যানার্জির একটি ভাষণের ছোট্ট ক্লিপ শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে তিনি হিন্দুদের নিশানা করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যাচ্ছে: “দোকান ভেঙেছো, লুটপাট করেছো। বন্ধু! একটা শিব মন্দির ভাঙলে সেটা নিয়ে বিজেপি কত নাটক করে।”
পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”শিব মন্দির ভাঙলে বিজেপি নাটক করে।” — মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কাছে হিন্দু মন্দির ভাঙা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। তাঁর শাসনকালে হিন্দুদের ওপর বারবার আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। কখনও দুর্গাপূজা বন্ধ হয়েছে, কখনও সরস্বতী পূজায় বাধা এসেছে, আবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক অশান্তির ঘটনাও ঘটেছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে যখন তিনি বাংলার হিন্দুদের উপর অত্যাচারকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেন। সেই কারণেই #BanchteChaiBJPTai।“
তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিডিওটি প্রসঙ্গবিহীন। তিনি হিন্দুদের নয়, রঘুনাথগঞ্জের সংঘর্ষ নিয়ে বিজেপির সমালোচনা করেছিলেন এবং কাশী বিশ্বনাথ করিডোরের পুনর্নির্মাণের সময় বারাণসীতে মন্দির ভেঙে ফেলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছিলেন।
তথ্য যাচাইঃ
ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে আমরা প্রথমে গুগলে প্রাসঙ্গিক কি ওয়ার্ড সার্চ করি। ‘Howrah Today’-এর ফেসবুক পেজে তুলনামুলক দীর্ঘ সংস্করণ পাওয়া যায়। এই ভিডিওতে তিনি রঘুনাথগঞ্জে সংঘর্ষের জন্য এবং কাশী বিশ্বনাথ করিডোরের পুনর্নির্মাণের সময় বারাণসীতে মন্দির ভেঙে ফেলার প্রসঙ্গ বিজেপিকে দায়ী করছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী ভাষণের দীর্ঘ ভিডিওটি তার ফেসবুক পেজে এবং তৃনমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল পেজ থেকে লাইভ করা হয়েছিল। ২৮ মার্চের এই পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”রানীগঞ্জের খান্দরা ফুটবল ময়দানের জনসভায় | Janasabha at Khandra Football ground, Raniganj.।“
ভিডিওর ১০:৫৬ মিনিটের পর থেকে তিনি বলছেন,”তুমি আমার হাত থেকে লোক সরিয়ে দিয়ে রঘুনাথপুরে কাল দাঙ্গা করেছো। বিজেপি করেছো তুমি। তোমার লজ্জা থাকা উচিত। সেজন্য সবাইকে সরিয়েছো, যাতে দাঙ্গা করা যায়। রঘুনাথগঞ্জে দোকান ভেঙেছো, লুটপাট করেছো। বন্ধু! একটা শিব মন্দির ভাঙলে সেটা নিয়ে বিজেপি কত নাটক করে। ভাঙা উচিত না। আমি ভাঙাকে সমর্থন করি না। কাশী বিশ্বনাথ মন্দির করতে গিয়ে কত মন্দির ভেঙেছিল বিজেপি। দিল্লির কালীবাড়ি ভেঙে উডিয়ে দিয়েছিল। আমি কেন জগন্নাথ ধাম করেছি…আমি খুব পাপ করেছি। রোজ কোয়েশ্চেন করা হয়। জিজ্ঞেস করুন কারও বাড়ি ভাঙচুর করার অধিকার তোমাদের কে দিল? রঘুনাথগঞ্জে দাঙ্গা করার অধিকার তোমাদের কে দিল? তোমরা এক তরফা করেছো।…”
https://www.facebook.com/share/v/17Z5UHeX83
উপরোক্ত তথ্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, ভাইরাল ভিডিওটি অসম্পূর্ণ।
নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেন্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, ভিডিওটি প্রসঙ্গবিহীন। তিনি হিন্দুদের নয়, রঘুনাথগঞ্জের সংঘর্ষ নিয়ে বিজেপির সমালোচনা করেছিলেন এবং কাশী বিশ্বনাথ করিডোরের পুনর্নির্মাণের সময় বারাণসীতে মন্দির ভেঙে ফেলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছিলেন।

