
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হচ্ছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে পুলিশ কর্মীরা তিন যুবককে প্রকাশ্য রাস্তায় বসিয়ে লাঠিপেটা করছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করছিল ওই যুবকেরা, তাই পুলিশ কর্মীরা তাদের প্রকাশ্য রাস্তায় লাঠিপেটা করছে।
ভিডিও পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”কলেজছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার দায়ে #অন্ধ্র পুলিশ তিন যুবককে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে পেটাল, যা সবাইকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কথা মনে করিয়ে দিল💯।“
তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি যে, এই যুবকেরা মাদকের প্রভাবে আইতানগরে পুলিশ কনস্টেবল চিরঞ্জীবীর ওপর হামলা চালিয়েছিল। শাস্তিস্বরূপ, অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করেছিল।
তথ্য যাচাইঃ
এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র ২৭ মে, ২০২৫, তারিখের প্রতিবেদনর শিরনামে লেখা হয়েছে,”পুলিশ কনস্টেবলের ওপর হামলার অভিযোগে অন্ধ্রপ্রদেশে ৩ যুবককে রাস্তায় ফেলে লাঠিপেটা পুলিশের।“
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই সময় ওই তিন যুবক ‘কিলার’ নামে পরিচিত আরও এক ব্যক্তির সঙ্গে মিলে গাঁজার নেশায় পুলিশ কনস্টেবল কান্না চিরঞ্জীবীর ওপর হামলা করেছিল। হামলার পর কনস্টেবলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই তিন যুবকের নাম- চেব্রোলু জন ভিক্টর, শেখ বাবুলাল এবং ডোমা রাকেশ।

ডেকান হ্যারাল্ড, ইন্ডিয়া টুডে, এনডি টিভির মত বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।
পুলিশি নির্যাতনের ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল

নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, কলেজছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে অন্ধ্রপ্রদেশে পুলিশের লাঠিপেটার দাবিটি মিথ্যা। এই যুবকেরা মাদকের প্রভাবে আইতানগরে পুলিশ কনস্টেবল চিরঞ্জীবীর ওপর হামলা চালিয়েছিল। এরপর অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করেছিল।

