
রাজ্যে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে, আর ফল প্রকাশ ৪ মে। এই প্রেক্ষিতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক যুবককে লাঠিপেটার একটি ভিডিও মুর্শিদাবাদের ঘটনা বলে দাবি করে ভাইরাল হয়েছে। পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, মারধরের শিকার ওই যুবকের নাম নজরুল ইসলাম এবং তিনি এলাকায় হিন্দু ভোটারদের আতঙ্কিত করার সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে লাঠিপেটার শিকার হন।
পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”মুর্শিদাবাদে হিন্দুদের ভোটের জন্য চলে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছিল নজরুল ইসলাম। স্থানীয় হিন্দুদের আগ্রাসী সচেতনতা নজরুল ইসলামের জি হাদি চিন্তার ফিল্টার ছিড়ে ফেলেছে। নজরুলের ছেড়া ফিল্টার দেখলে বোঝা যায় বাংলার হিন্দু পরিবর্তন এনে মেনে নেবে। জয় জগন্নাথ। 🚩 #পাল্টানো_দরকার_চাই_বিজেপি_সরকার।“
তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, ভাইরাল দাবিটি মিথ্যা। ২০২২ সালে উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে অগ্নিবীর স্কিমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে কিছু বিক্ষোভকারী জোর করে দোকানপাট বন্ধ করার চেষ্টা করলে স্থানীয় দোকানদারেরা তাদের ধরে মারধর করে।
তথ্য যাচাইঃ
এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। ফলস্বরুপ, এই একই ভিডিও ‘Organiser Weekly’-এর এক্স হ্যান্ডেলে পেয়ে যায়। ১৭ জুন, ২০২২ এ করা এই পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”বারাণসীতে জোর করে দোকান বন্ধ করতে আসা সহিংস জনতাকে স্থানীয়রা মারধর করে, #Agnipath #Agniveer।“
ভিডিওটি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, রাস্তার পাশে একটি সাইন বোর্ড। যেখানে লেখা রয়েছে- টেলিফোন কলোনি, নগর নিগম, বারানসি। গুগল ম্যাপ্স নিশ্চিত করে, এই ঠিকানা উত্তরপ্রদেশের বারানসির।

উপরোক্ত তথ্যকে মাথায় রেখে গুগল সার্চের মাধ্যমে বেশ কিছু সংবাদ প্রতিবেদন, উপস্থাপন পাওয়া যায়। উপস্থাপন অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুন মাসে অগ্নীপথ স্কিমের চালুর পর উত্তরপ্রদেশের বারানসিতে ব্যাপক অশান্তি দেখা দিয়েছিল। নতুন এই স্বল্পমেয়াদি সামরিক নিয়োগ পদ্ধতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে আসে এবং বিভিন্ন জায়গায় সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এই বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল চার বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা যেখানে মাত্র ২৫% কর্মীকে স্থায়ীভাবে রাখা হবে। এতে করে চাকরির স্থায়িত্ব ও পেনশন নিয়ে যুবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, ২০২২ সালের বারাণসীর বিক্ষোভ সংক্রান্ত সংঘর্ষের একটি পুরনো ভিডিওকে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক ঘটনার দাবি করে শেয়ার করা হচ্ছে।

