বাংলাদেশের স্ক্রিপ্টেড ভিডিওকে সাম্প্রদায়িকতা জুড়ে কলকাতার বলে শেয়ার

Communal False

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও বিশাল ভাইরাল হয়েছে যা শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, কোলকাতায় উগ্রবাদি হিন্দু ব্যক্তি মুসলিম শিশু বেলুন বিক্রেতার বেলুন ফাটিয়ে দিচ্ছে। পোস্টের কাপ্সসনে লেখা হয়েছে,”উগ্রহিন্দু তার সব বেলুন ফাটিয়ে দিয়েছে, কারণ শিশুটি মুসলিম। কলকাতার ঘটনা। এদের ঘৃণার লেভেল আসমান ছাড়িয়ে গেছে।“ 

ভিডিওটি ভারতের নয়, বাংলাদেশের। এতে কোনো সাম্প্রদায়িক বিষয় নেই। ভিডিওটি কোলকাতার নয়, বাংলাদেশের। ভিডিওটি স্ক্রিপ্টেড। 

ফেসবুক পোস্ট 

তথ্য যাচাইঃ 

এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। ফলে, একই ভিডিওর দীর্ঘ সংস্করণ “ʙᴅ ɪʙʀᴀʜɪᴍ ʀᴇᴇʟꜱ’ নামক ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়। 

ভিডিওর ০:২৫ মিনিট থেকে দেখা যায়, লোকটি শিশুটির বয়স জিজ্ঞেস করলে সে বলে তার বয়স ১২ বছর। লোকটি জিজ্ঞেস করে, “এই সময় তোর কী করা উচিত?” শিশুটি বলে, “বেলুন বিক্রি করা।“ তখন লোকটি বলে, “এই সময় তোর খেলাধুলা করা আর পড়াশোনা করা উচিত। তুই বেলুন বিক্রি করছ কেন? পড়াশোনা করিস না?” শিশুটি বলে, “না।“ এরপর লোকটি বেলুনগুলোর দাম জিজ্ঞেস করে সেই টাকা তাকে দিয়ে খেলতে যেতে বলে। টাকা পেয়ে শিশুটি জানায় যে সে খুশি। 

ঢাকার মিরপুর ভিত্তিক এই ফেসবুক প্রোফাইলে আরও অনেক বিনোদনমুলক, প্রমোশনাল ভিডিও পাওয়া যায়। কেক প্রমোশনাল করছে এমন একটি ভিডিও সাথে ভাইরাল ভিডিওর কিছু মিল পাওয়া যায়। সেই মিল এবং পেছনে থাকা চায়ের দোকানকে সুত্র ধরে গুগল ম্যাপ্সে সেই জায়গা পেয়ে যায়। গুগল ম্যাপ্স নিশ্চিত করে এটি বাংলাদেশের মিরপুরের ভিডিও। 

আরও খোঁজাখুঁজির পর এই একই ভিডিও ‘The Dhaka-রাজু ভাই’-এর ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়। দীর্ঘ এই ভিডিওতেও লোকটি বেলুনগুলোর দাম জিজ্ঞেস করে সেই টাকা তাকে দিয়ে খেলতে যেতে বলে। 

উক্ত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ভিডিও নিয়ে একটি স্পস্টকরন ভিডিও শেয়ার করে। ভিডিওতে তিনি স্পষ্ট করেন ভিডিওটি স্ক্রিপ্টেড। 

নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, এক যুবক কর্তৃক শিশু বেলুন বিক্রেতার বেলুন ফাটিয়ে দেওয়ার ভাইরাল ভিডিওটি কোলকাতার নয়, বাংলাদেশের এবং ভিডিওটি স্ক্রিপ্টেড। 

Avatar

Title:বাংলাদেশের স্ক্রিপ্টেড ভিডিওকে সাম্প্রদায়িকতা জুড়ে কলকাতার বলে শেয়ার

Fact Check By: Nasim Akhtar 

Result: False

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *