
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে খোলা আকাশের নিচে অনেকগুলো বন্দুক রাখা রয়েছে এবং সেগুলোকে ঘিরে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, এতে দেখা অস্ত্রগুলো নাকি একটি মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ভিডিওর উপর লেখা হয়েছে,”মোল্লা সরকার কিছু বলছে না কেন? মাদ্রাসায় অস্ত্র প্রদর্শনী দেখুন।“
তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, ভিডিওতে থাকা অস্ত্রগুলো কোনো মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার করা হয়নি। বরং এগুলো উত্তরপ্রদেশের কুণ্ডা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রঘু রাজ প্রতাপ সিং-এর। বিজয়দশমী উপলক্ষে তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে ২০০–৭০০টিরও বেশি দেশি-বিদেশি অস্ত্রের শস্ত্র পূজার এই পুরনো ভিডিওটি সাম্প্রদায়িক রঙ দিয়ে বিভ্রান্তিকরভাবে শেয়ার করা হচ্ছে।
তথ্য যাচাইঃ
অস্ত্রগুলো কোনো মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার হয়েছে কি না তা জানতে ভিডিওর কিছু ফ্রেম গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে মূলধারার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেসব প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ত্রগুলো উত্তরপ্রদেশের কুণ্ডা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা জনসত্তা দল (ল)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় সভাপতি রঘু রাজ প্রতাপ সিং-এর। ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর, দশেরা উপলক্ষে তিনি তাঁর সমস্ত অস্ত্র এক জায়গায় জড়ো করে শস্ত্র পূজা করেছিলেন।
তিনি জানিয়েছিলেন, দশেরা বা বিজয়াদশমীর দিনে শস্ত্র পূজা করা বহু পুরনো হিন্দু ঐতিহ্যের অংশ। ইতিহাসগতভাবে এই দিনে অস্ত্রকে শক্তি, সুরক্ষা ও ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে সম্মান জানানো হয়। এই আয়োজন ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও পারিবারিক রীতিরই ধারাবাহিকতা। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত অস্ত্রগুলো অবৈধ নয়। এগুলো তাঁর পরিবার ও সমর্থকদের বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র, যেগুলো নিয়ম মেনে রাখা হয়েছে।

নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, ভিডিওতে থাকা অস্ত্রগুলো কোনো মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার করা হয়নি। বরং এগুলো উত্তরপ্রদেশের কুণ্ডা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রঘু রাজ প্রতাপ সিং-এর। দশেরা উপলক্ষে তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে ২০০–৭০০টিরও বেশি দেশি-বিদেশি অস্ত্রের শস্ত্র পূজার এই পুরনো ভিডিওটি সাম্প্রদায়িক রঙ দিয়ে বিভ্রান্তিকরভাবে শেয়ার করা হচ্ছে।

