
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক যুবককে পুলিশের মারধরের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, এটি উত্তরপ্রদেশের ঘটনা। দাবি অনুযায়ী, এক মহিলার পোস্টারের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তাকে বেধড়ক মারধর করছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক মহিলা সাংবাদিক অঞ্জনা ওম কাশ্যপের পোস্টার দেয়ালে সাঁটিয়ে তাতে মূত্রত্যাগ করছে। এরপরই কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে ওই যুবককে লাঠিপেটা করতে দেখা যায়।
পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”এর যা সার্ভিসিং হয়েছে দেখার মত 😂😂।“
তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি ভিডিওটি উত্তরপ্রদেশের নয়। এটি মহারাষ্ট্রের কল্যাণের ঘটনা। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ অভিযুক্তকে বেধড়ক লাঠিপেটা করে।
তথ্য যাচাইঃ
এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে এই একই ভিডিও বেশ কিছু ইন্সতা প্রোফাইল থেকে পোস্ট করা মিলে। পোস্ট গুলোতে এটিকে মহারাষ্ট্রের কল্যানের বলে জানানো হয়। কল্যাণ পূর্বের আত্মারামনগর এলাকায় একটি গাড়ির সামান্য ধাক্কাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ অভিযুক্তকে বেধড়ক লাঠিপেটা করে।
এই তথ্যকে সুত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে মারাঠি সংবাদমাধ্যম ‘esakal’-এর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ১১ জুন, ২০২৬, তারিখের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের কল্যাণ পূর্বের আত্মারাম নগর এলাকায় একটি গাড়ির ধাক্কাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনার খবর পেয়ে কল্যাণের পুলিশ উপ-কমিশনার (ডিসিপি) অতুল ঝেন্দে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের আটক করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেন। এ সময় অভিযুক্তকে লাঠিপেটা করার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

| প্রতিবেদন | আর্কাইভ |
নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, ভিডিওটি উত্তরপ্রদেশের নয়। এটি মহারাষ্ট্রের কল্যাণে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর পুলিশের অভিযুক্তকে লাঠিপেটার পুরোনো ভিডিও, যা নারী সুরক্ষায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের দাবি করে বিভ্রান্তিকরভাবে শেয়ার করা হচ্ছে।

