
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ছবি ও ভিডিও বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয়। এরই মধ্যে একটি চিঠি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, অবশেষে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন। চিঠিটিতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের স্বাক্ষর রয়েছে এবং দাবি করা হচ্ছে, তিনি এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পাঠিয়েছেন।
পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”অবশেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ধর্মেন্দ্র প্রধান জি ইস্তফা দিলেন।“
তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি এখন পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেননি। তাঁর ইস্তফার নামে ভাইরাল হওয়া চিঠিটি সম্পাদিত এবং ভুয়ো।

তথ্য যাচাইঃ
এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে আমরা প্রথমে গুগলে প্রাসঙ্গিক কী ওয়ার্ড দিয়ে অনুসন্ধান করি। তবে কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন বা তথ্য পাওয়া যায়নি। চলমান বিক্ষোভের মধ্যে তিনি যদি সত্যিই ইস্তফা দিতেন, তাহলে তা সামাজিক মাধ্যম ও মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠত। কিন্তু এমন কোনো খবরের অনুপস্থিতি থেকেই স্পষ্ট হয় যে, তাঁর ইস্তফার দাবিটি ভিত্তিহীন।
এরপর আমরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং তাঁর সামাজিক মাধ্যমের প্রোফাইলগুলোতে ভাইরাল চিঠি বা ইস্তফাপত্রের কোনো উল্লেখ রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখি। কিন্তু সেখানে এ ধরনের কোনো তথ্য বা চিঠি পাওয়া যায়নি। এতে আরও স্পষ্ট হয় যে, ভাইরাল দাবিটি মিথ্যা।
এরপর আমরা ধর্মেন্দ্র প্রধান কর্তৃক জারি করা একটি অফিসিয়াল চিঠির সঙ্গে ভাইরাল চিঠিটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করি। এতে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। আসল চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের নাম ওড়িয়া, হিন্দি ও ইংরেজি তিন ভাষায় উল্লেখ থাকলেও ভাইরাল চিঠিতে ওড়িয়া ভাষায় নাম নেই। এছাড়া, ভাইরাল চিঠির স্বাক্ষরটিও আসল চিঠিতে ব্যবহৃত স্বাক্ষরের সঙ্গে মেলে না।

নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, এখন পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেননি। তাঁর ইস্তফার নামে ভাইরাল হওয়া চিঠিটি সম্পাদিত এবং ভুয়ো।

