২০১৮ সালের ভিডিওকে ইজরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষের সাথে যুক্ত করে ভুয়ো পোস্ট ভাইরাল

False International

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ভিডিওতে ফিলিস্তিনের মহিলাদের মারছে ইজরায়েল পুলিশ। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে দুজন পুলিশের সাথে একজন মহিলা এবং দুজন লোক ধস্তাধস্তি করছে। একজন পুলিশ মহিলাটিকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করছে এবং ওই দুজন লোক পুলিশের ওপর চড়াও হয়েছে এবং তাকে আটকানোর চেষ্টা করছে। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, “ফিলিস্তিন ভিডিও টা দেখে চোখের পানি এসে গেল। আল্লাহ তুমি ইসরাইল কাফেরদের থেকে ফিলিস্তিনদের মা ও বোনদেরকে বাঁচা ও।“ 

তথ্য যাচাই করে দেখতে পেয়েছি এই দাবি ভুয়ো এবং ভিত্তিহীন। ২০১৮ সালের জর্জিয়ার একটি ঘটনাকে ইজরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষের সাথে যুক্ত করে বিভ্রান্তিকর পোস্ট ভাইরাল করা হচ্ছে।

ফেসবুক পোস্ট

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ফের ইজরায়েল ও ফিলিস্তিনের বহু প্রাচীন সংঘর্ষের আগুন জ্বলে উঠেছে। এবার ঘটনাস্থল জেরুজালেমের আল-একসা মসজিদ। ইতিমধ্যেই সংঘর্ষ রীতিমতো বড় আকার ধারণ করেছে দুপক্ষের মধ্যে। একে অপরের দিকে নিশানা করে চলে রকেট নিক্ষেপ। সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যার মধ্যে ১৭ জন শিশু এবং আট জন মহিলা। অন্যদিকে, হামাসের রকেট হামলায় দুজন ইজরায়েলি প্রান হারিয়েছে যার মধ্যে একজন ভারতীয় বলে জানা গিয়েছে।

তথ্য যাচাই 

এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে প্রথমে আমরা ভিডিওটিকে ‘ইনভিড টুলে’ ভেঙ্গে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। ফলাফলে ‘রেডিট’-এর ওয়েবসাইট এই ভিডিওটি দেখতে পাই। ২০১৮ সালে আপলোড করা এই ভিডিওর কমেন্ট সেকশন থেকে জানতে পারি এটি জর্জিয়ার লিলবার্ন শহরের ঘটনা।

Graphical user interface, application

Description automatically generated
রেডিট পোস্ট আর্কাইভ 

এরপর প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করে সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেল’-এর ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিলের একটি প্রতিবেদনে ভিডিওটিকে দেখতে পাই। জানতে পারি, এটি জর্জিয়ার লিলবার্ন শহরের ঘটনা। স্থানীয় পুলিশের কাছে একটি মেয়ের নিখোঁজ ডাইরি করা হয় এবং স্থানীয় একটি গির্জার পাদ্রীর ছেলেকে অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশে যখন গির্জায় অভিযুক্ত উইলিয়াম জুনিয়রকে ধরতে যায় তখন পাদ্রী উইলিয়াম ক্রুজ এবং তার স্ত্রী ক্রিস্টিনার সাথে পুলিশের বচসা বেঁধে যায়। ওই পরিবারের সাথে ধস্তাধস্তি শুরু হয় পুলিশের। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে চাইলে তার মা বাধা দেয় এবং পুলিশের ওপর চড়াও হয়। শেষ অবধি পরিবারের তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ওই প্রতিবেদনে তাদের গ্রেফতারের পরের ছবি এবং ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিও পাওয়া যায়।

A collage of two people

Description automatically generated with medium confidence
প্রতিবেদনআর্কাইভ 

এছাড়া, ইউটিউবে এই ঘটনার আরও বেশ কয়েকটি ভিডিও দেখতে পাই। সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-এর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ২০১৮ সালের ৩০ মার্চ জর্জিয়ার এই ঘটনাটির অন্য একটি ভিডিও দেখতে পাই। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে যাদের দেখা যাচ্ছে এই ভিডিওতেও তারাই রয়েছে এবং সকলের পোশাক একই।

নিচে দুটি ভিডিওর স্ক্রিনশট পাশাপাশি দেওয়া হল। এতে স্পষ্ট হয়ে যায় দুটি একই ঘটনার ভিডিও। 

Graphical user interface

Description automatically generated with low confidence

নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাই করে ফ্যাক্ট ক্রিসেন্ডো সিদ্ধান্তে এসেছে উপরোক্ত দাবিটি ভুল। ২০১৮ সালের জর্জিয়ার একটি ঘটনাকে ইজরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষের সাথে যুক্ত করে বিভ্রান্তিকর পোস্ট ভাইরাল করা হচ্ছে। 

Avatar

Title:২০১৮ সালের ভিডিওকে ইজরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষের সাথে যুক্ত করে ভুয়ো পোস্ট ভাইরাল

Fact Check By: Nasim A 

Result: False


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *