
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রাক্তন টিএমসি নেতা তপন চ্যাটার্জির তর্কাতর্কির একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, বিজেপিতে যোগদানের চেষ্টা করছেন তৃনমূল নেতা। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারী এবং তৃনমূল নেতা তপন দাস ক্যামেরার সামনেই তর্কাতর্কি করছেন।
ভিডিও পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”দুর্নীতি এড়াতে এবার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা।“
তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি, ভিডিওটি ২০২৪ সালের। সে সময় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও প্রাক্তন টিএমসি বিধায়ক তপন চ্যাটার্জির মধ্যে বিধানসভার লবিতে হওয়া বাকবিতণ্ডার ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর দাবির সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছে।
তথ্য যাচাইঃ
প্রথমত, শুভেন্দু অধিকারীর সাথে বাকবিতণ্ডা করা সেই ব্যক্তি টিএমসি নেতা তপন চ্যাটার্জকে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট দেওয়া হয়নি। যা নিয়ে নিজের ক্ষোভ উগড়ে ছিলেন। অর্থাৎ, এই বার তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে বিধানসভায় পৌছাতে পারেনি। যা থেকে ধারনা হয় যে, ভিডিওটি অপ্রাসঙ্গিক।
তারপর, আমরা ভিডিওর আসল উৎস জানতে প্রাসঙ্গিক কি ওয়ার্ড সার্চ করি। ভাইরাল ভিডিওর দীর্ঘ সংস্করনটি ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর ইউটিউব চ্যানেলে পেয়ে যায়। ২৪ জুলাই, ২০২৪, তারিখে আপলোড করা এই ভিডিওতে জানানো হয়- বিধানসভার ভেতরেই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন পূর্বস্থলীর তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার দাবি, সেই বাকবিতণ্ডা পর্বের সময়েই তাঁকে শারীরিক ভাবে হেনস্তা করেছেন ওই বিধায়ক।
তিনি জানিয়েছিলেন, সে সময় শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র পূর্বস্থলীতে একটি কর্মসূচিতে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেন এবং দাবি করেন যে তাঁর মেয়ে শিক্ষকতার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত রয়েছেন। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে তিনি বিধানসভার লবিতে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
অন্যান্য প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।
নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, ভিডিওটি ২০২৪ সালের। সে সময় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও প্রাক্তন টিএমসি বিধায়ক তপন চ্যাটার্জির মধ্যে বিধানসভার লবিতে হওয়া বাকবিতণ্ডার পুরনো ভিডিওকে বিভ্রান্তিকর দাবির সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছে।

