ছবি গুলো সৌরযান আদিত্য L1 দ্বারা তোলা নয় 

False Social

চন্দ্রযান ৩ এর পর আদিত্য L1 নামের মহাকাশযান সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। আদিত্য L1 নামের এই সৌরযানকে পৃথিবীর L1 বিন্দুর চারিদিকে এক বলয় কক্ষপথে স্থাপিত করে সূর্যের বায়ুমণ্ডলকে পর্যবেক্ষণ করার উদ্দেশ্যে প্রেরন করা হয়েছিল এবং সেটিকে ঠিকঠাক ভাবেই নিজের লক্ষস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। সফলতার এই খবর জনসম্মুখে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়াই ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে অপ্রাসঙ্গিক বেশ কিছু ছবি যাকে ঘিরেই আজকের এই প্রতিবেদন। ঘন হলুদ রঙের সূর্যপৃষ্ঠের ন্যায়ই বেশ কয়েকটি ছবি শেয়ার করে সেগুলোকে আদিত্য L1 দ্বারা তোলা সূর্যের ছবি দাবি করা হচ্ছে। পোস্টগুলোর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,” ISRO -র সৌরযান আদিত্য L1 থেকে তোলা সূর্যের সবথেকে কাছের ছবি। এই প্রথমবার সূর্যের এই রূপ দেখলো বিশ্ব। জয় হিন্দ, জয় ভারত।“    

তথ্য যাচাই করে আমরা দেখতে পেয়েছি পোস্টের দাবিটি ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর। ছবিগুলো আদিত্য L1-এর সাথে সম্পর্কিত নয়।

ফেসবুক পোস্ট  আর্কাইভ 

তথ্য যাচাইঃ 

প্রথমেই বলে রাখা ভালো, আদিত্য L1 মহাকাশযানটি ২ সেপ্টেম্বর,২০২৩, তারিখে সতীশ ধওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল এবং তার লক্ষস্থানে পৌঁছায় ৬ জানুয়ারি,২০২৪, তারিখে যেখান থেকে এটি অবিচ্ছিন্নভাবে সূর্যকে দেখতে সক্ষম। 

আদিত্য L1 দ্বারা সূর্যের তোলা কিছু ছবি ইসরো তার ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল গুলো থেকে শেয়ার করেছে। শেয়ার করা এই ছবি গুলোর সাথে ভাইরাল ফেসবুক পোস্টের ছবিগুলোর কোন মিল পাওয়া যায়না। 

তাছাড়া, ছবিগুলো যে আদিত্য L1 দ্বারা তোলা তার সাপেক্ষে কোন সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়না। 

তারপর ছবিগুলোকে গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। ফলে, এই ছবি গুলোই বেশ কিছু ফেসবুক প্রোফাইলে পাওয়া যায়। ‘Quantum Physics’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে ছবিগুলো ২০২২ সালের ২ অক্টোবর তারিখে পোস্ট করা হয়েছে। 

অর্থাৎ, ছবিগুলো মহাকাশযান আদিত্য L1 উৎক্ষেপণ হওয়ার আগে থেকেই ইন্টারনেটে উপলব্ধ রয়েছে। সুতরাং, প্রমানিত হয় যে ছবিগুলো পুরনো এবং আদিত্য L1 এর সাথে সম্পর্কিত নয়। 

নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাই করে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো সিদ্ধান্তে এসেছে উপরোক্ত দাবিটি ভুয়ো। সূর্যপৃষ্ঠের ন্যায় কিছু পুরনো ছবিকে আদিত্য L1 দ্বারা তোলা দাবিতে শেয়ার করা হয়েছে।  

Avatar

Title:ছবি গুলো সৌরযান আদিত্য L1 দ্বারা তোলা নয়

Written By: Nasim Akhtar 

Result: False


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *