ভিডিওটি ভরত ভূষণ তিওয়ারির মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয় 

False Social

বিহারের ভোজপুর জেলার ২৮ বছর বয়সী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কর্মী ভারত ভূষণ তিওয়ারি ১৭ জুন ২০২৬ পুলিশি এনকাউন্টারে নিহত হন। এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বিহার সরকার। তবে পুলিশ দাবি করেছে, অভিযানের সময় তিওয়ারি গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে এই এনকাউন্টার করা হয়। এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে একটি বড় জনসমাগমের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে ভরত তিওয়ারির শেষযাত্রায় লাখো মানুষ অংশ নিয়েছিল। 

পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর! শহিদ ভরত তিওয়ারির শেষ যাত্রায় লক্ষ লক্ষ মানুষের এই জনজোয়ারই প্রমাণ করে, সত্যের লড়াই কোনোদিন মুছে যায় না। সাধারণ মানুষের অধিকারের জন্য আপনার এই আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিনম্র শ্রদ্ধা! 🕯️✊” 

তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে করা দাবিটি বিভ্রান্তিকর। ভিডিওটি ভরত ভূষণ তিওয়ারির মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এটি তার মৃত্যুর আগেই ইন্টারনেটে প্রকাশিত একটি পুরোনো ভিডিও। 

ফেসবুক পোস্ট 

তথ্য যাচাইঃ 

এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। ফলে, একই ভিডিওটি ‘japala_palamu’ নামক ইন্সতা পেজে পাওয়া যায়। ভিডিওটি ৪ জুনে পোস্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ, ভিডিওটি ভরত তিওয়ারির মৃত্যুর আগে থেকেই ইন্টারনেটে উপলব্ধ রয়েছে। 

আমরা, ‘japala_palamu’ নামক ইন্সতা ইউজারের সাথে যোগাযোগ করি। তিনি আমাদের জানান- ভিডিওটি ঝাড়খণ্ডের পালামু জেলার জাপলার ভিডিও। সেখানে একটি খনিতে দুর্ঘটনায় এক যুবকের ডুবে মৃত্যুর পর ঘটনাস্থলের কাছে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিল। 

উপরোক্ত তথ্য মাথায় রেখে গুগল সার্চের মাধ্যমে জানতে পারি, ২৪ বছর বয়সী লাভকুশ কুমার হুসাইনাবাদ থানার আওতাধীন দামদামি খনন এলাকায় পানিতে ভরা একটি গভীর খনির গর্তে ডুবে মারা যান। ঘটনার তদন্তের পর পুলিশ খনি পরিচালনাকারীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। উদ্ধার অভিযান চলাকালে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতির খবরের অপেক্ষায় ছিলেন।

৩ জুন, ২০২৬, তারিখে আপলোড করা নিউজ১১ ভারত- নামের সংবাদ উপস্থাপনের শিরনামে লেখা হয়েছে,”পালামু: খনির গর্তে ডুবে এক যুবক নিখোঁজ, তল্লাশিতে পুলিশ ও এনডিআরএফের দল মোতায়েন।“ 

ভিডিওর শেষের ক্লিপটি প্রায় ৪৫১ বছর আগে একটি মুঘল চৌকি ধ্বংসের স্মরণে মেনার গ্রাম-এর মেনারিয়া ব্রাহ্মণ সমাজ বারুদের হোলি উদযাপন করে। উদয়পুর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে উদয়পুর-চিত্তৌড়গড় জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থিত এই গ্রামে প্রতি বছর হোলিকা দহনের ৪৮ ঘণ্টা পরে, অর্থাৎ তৃতীয় রাতে (জমরা বীজ), এই বিশেষ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। 

নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে করা দাবিটি বিভ্রান্তিকর। ভিডিওটি ভরত ভূষণ তিওয়ারির মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এটি তার মৃত্যুর আগেই ইন্টারনেটে প্রকাশিত একটি পুরোনো ভিডিও। 

Result Stamp

Title: ভিডিওটি ভরত ভূষণ তিওয়ারির মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়

Fact Check By: Nasim Akhtar

Result: False

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *