মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে গাড়ি ধোওয়া বিতর্কে অভিযুক্ত তিন হিন্দু যুবকের লাঠিপেটার ভিডিওকে মুসলিম যুবকদের হয়রানির ঘটনা দাবি করে শেয়ার

Communal False

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকে একটি ভিডিও যেখানে তিনজন যুবককে প্রকাশ্য রাস্তায় লাঠি পেটা করছে পুলিশ কর্মী। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, ভিডিওর তিন যুবকের নাম আসিফ, আসরাফ এবং আরিফ। তারা কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়েদের উত্তক্ত করছিল। পরে, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা স্বরূপ, প্রকাশ্যে লাঠি পেটা করে। 

ভিডিও পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”আসিফ, আসরফ আর আরিফ কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়েদের উতক্ত করিছিল। তারপরের কাজটা ইন্সপেক্টর নিজের হাতেই তুলে নিলেন।“ 

তথ্য যাচাইয়ে আমরা পেয়েছি, মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে গাড়ি ধোওয়া নিয়ে বিবাদের ঘটনায় অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে লাঠিপেটার ভিডিওকে কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে মুসলিম যুবকদের মেয়েদের উত্তক্ত করার ঘটনা দাবি করে শেয়ার করা হচ্ছে।

ফেসবুক পোস্ট 

তথ্য যাচাইঃ 

এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। ফলে, ভিডিও কেন্দ্রিক এমপি তাক’-এর উপস্থাপন পাওয়া যায়। ২০ এপ্রিল,২০২৬, তারিখে আপলোড করা এই ভিডিওর শিরনামে লেখা হয়েছে,”উজ্জয়িনীতে পাথর ছোড়ার ঘটনায় অভিযুক্তদের একই গলিতে মিছিল করিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করল পুলিশ।“ 

উপস্থাপন অনুযায়ী, উজ্জয়েনের এমআর-৫ রোডে একটি গাড়ি ধোয়ার দোকান চালান শেরান আলী। সময়ের অভাবে সেদিন একদল দুষ্কৃতকারীর গাড়ি ধুতে অস্বীকার করেন। এর প্রতিশোধ নিতে বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ২টার দিকে দুষ্কৃতীরা শেরানের বাড়িতে পৌঁছে যায়। তারা  শেরানের বাইকও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা আফরোজের বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ডিজায়ার গাড়ি এবং প্রতিবেশী ডা. প্রদীপ আগরওয়ালের গাড়ির কাচ পাথর ছুড়ে ভেঙে দেয়। আতঙ্কে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরেই ছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর ডায়াল ১১২-এর দল পৌঁছালে দুষ্কৃতীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। 

এই ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে ঘটনাস্থলেই তাদের মিছিল বের করে পুলিশ। পাঁচ অভিযুক্তের মধ্যে কিশন আহিরওয়ার, বিশাল ও বিকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পুলিশ তাদের সেই এলাকাতেই নিয়ে যায়, যেখানে তারা তাণ্ডব চালিয়েছিল। সেখানে জনসমক্ষে তাদের মিছিল করানোর পাশাপাশি লাঠিপেটাও করা হয়। 

নব ভারত টাইমস, রিপাবলিক ভারত-এর প্রতিবেদন থেকেও একটি তথ্য জানা যায়। 

নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, ভিডিওতে থাকা যুবকদের কেউই মুসলিম নন, তারা হিন্দু। মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে গাড়ি ধোওয়া নিয়ে বিবাদের ঘটনায় অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে লাঠিপেটার ভিডিওকে কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে মুসলিম যুবকদের মেয়েদের উত্তক্ত করার ঘটনা দাবি করে শেয়ার করা হচ্ছে।

Result Stamp

Title: মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে গাড়ি ধোওয়া বিতর্কে অভিযুক্ত তিন হিন্দু যুবকের লাঠিপেটার ভিডিওকে মুসলিম যুবকদের হয়রানির ঘটনা দাবি করে শেয়ার

Fact Check By: Nasim Akhtar

Result: False

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *