না, এটি এক বাবাকে আসামে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নয়

False Political

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া একটি পুরনো ছবি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, আসামে ডিটেনশন ক্যাম্পে তুলে যাওয়ার সময় ছেলেকে ধরে কাদছেন বাবা। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি লোহার জালি লাগানো গাড়ির ভেতর থেকে হাত বের করে একজন লোক একটি ছেলেকে ধরে কাদছেন। দাবি করা হচ্ছে ওই ব্যাক্তি আসামে বিজেপিকে ভোট দেওয়া সত্ত্বেও এনআরসি তালিকায় তার নাম আসেনি। পুলিশ তাকে ধরে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছে সেই মুহূর্তে সে শেষ বারের মতো তার ছেলেকে দেখছেন। 

পোস্টের ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, “যারা বি.জে.পি.র হয়ে মিটিংয়ে যাচ্ছেন এবং ভোট দিতে চান তাদেরকে বলছি, ছবিতে যাকে দেখছেন জালঘেরা গাড়িতে ২০১৬ আসামের নির্বাচনে ইনিও আপনার মত মোদী আমিত শা র হয়ে প্রচার করে বি.জে.পি.কে ক্ষমতায় এনেছিলো, তারপর আসামে যে নাগরিকদের নামের তালিকা প্রকাশ হয়,,, পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম থাকলেও তার নামটা বাদ যায়। আসামের পুলিশ তাকে ডিটেনশন ক্যাম্পে তুলে নিয়ে যাবার সময় করুন মুহূর্ত, বাবা এবং ছেলের । আপনি যতই বি.জে.পি করুন না কেন এই ঘটনা আপনার সাথেও ঘটবে। তাই ভেবেচিন্তে ভোট দিন। বিজেপিকে একটিও ভোট নয়।“

তথ্য যাচাই করে দেখতে পেয়েছি এই দাবি ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর। গুজরাট দাঙ্গায় যোগ থাকায় ২০১২ সালে দোষী সাবস্ত্য হওয়া এক ব্যাক্তিকে জেলে নিয়ে যাওয়ার সময়ের ছবিকে ভুয়ো দাবির সাথে ভাইরাল করা হচ্ছে। 

Assam detention camp.png
ফেসবুক আর্কাইভ
Gujrat riot convict.png

তথ্য যাচাই 

এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ছবিটিকে প্রথমে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। ফলাফলে সংবাদমাধ্যম “এনবিসি”র একটি প্রতিবেদনে এই ছবিটি দেখতে পাই। ছবির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, “২০১২ সালের ২৯ অগস্ট ভারতের আমেদাবাদে ২০০২ সালের একটি ধর্মীয় হিংসায় দোষী সাবস্ত্য হওয়ার পর তাকে জেলে নিয়ে যাওয়ার সময় সে তার ছেলেকে সান্তনা দিচ্ছে। ধর্মীয় হিংসায় দাঙ্গা থেকে এবং খুনের জন্য ৩২ জনকে দোষী সাবস্ত্য করেছে পশ্চিম ভারতের এই আদালত। ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি তীর্থযাত্রীদের ট্রেনে আগুন লাগায় ৬০ জনের মৃত্যু থেকে হয় এই দাঙ্গার সূত্রপাত। এই দাঙ্গার জন্য মুসলিমদের দায়ী করা হয় এবং এরপর হিন্দুরা কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় মুসলিমদের ঘরবাড়ি এবং দোকান জালিয়ে দেয়।“ 

Gujrat riot.png
ফেসবুক আর্কাইভ

এরপর কিওয়ার্ড সার্চ করে এই একই ছবিকে সংবাদমাধ্যম “এবিসি নিউজ”র প্রতিবেদনে এই একই ছবি দেখতে পাই। 

ABC.png
প্রতিবেদন আর্কাইভ

নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাই করে ফ্যাক্ট ক্রিসেন্ডো সিদ্ধান্তে এসেছে উপরোক্ত দাবিটি ভুল। বাংলাদেশের লকডাউনের খবরকে বিভ্রান্তিকর শিরোনাম সহ প্রতিবেদন শেয়ার করে ভুল খবর ছড়ানো হচ্ছে।

Avatar

Title:না, এটি এক বাবাকে আসামে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নয়

Fact Check By: Rahul A 

Result: False


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *